তরিকুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
বিংশ শতাব্দীর বরেণ্য চিত্রশিল্পী এবং বাংলাদেশের আধুনিক শিল্পকলা আন্দোলনের পথিকৃৎ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের আজ জন্মদিন। বাংলাদেশে চারুকলা শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপন এবং চিত্রশিল্পের প্রসারে তাঁর অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে 'শিল্পাচার্য' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
জয়নুল আবেদিনের তুলিতে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, প্রকৃতি এবং বাংলার সংস্কৃতি জীবন্ত হয়ে উঠেছে। পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, আলোচনা সভা ও র্যালির মাধ্যমে শুভজন্মদিন উদযাপন শিল্প–ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির পীঠস্থান সোনারগাঁয়ে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হলো প্রখ্যাত শিল্পী জনুয়ল আবেদিন–কে। তাঁর শুভজন্মদিন উপলক্ষে আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর ২০২৫) বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন, সোনারগাঁও জাদুঘর প্রাঙ্গণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, আলোচনা সভা ও র্যালির আয়োজন করে পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি।
সকালে জাদুঘর প্রাঙ্গণে জয়নুল আবেদিনের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে ‘সোনারগাঁয়ের হৃদয়ে জয়নুল আবেদিন’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিল্পী জীবনের বিভিন্ন দিক, তাঁর শিল্পদর্শন এবং প্রকৃতি ও মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা তুলে ধরা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন দৈনিক যুগান্তর–এর সোনারগাঁ প্রতিনিধি আল আমিন তুষার। তিনি বলেন,“জয়নুল আবেদিন আমাদের শিল্প–চেতনার বাতিঘর। তাঁর তুলিতে ফুটে উঠেছে গ্রামবাংলার জীবন, নদী–মাটি–মানুষের কথা। এই শিল্পচর্চা আমাদের পরিবেশ ও মানবিকতার প্রতি দায়বদ্ধ হতে শেখায়। আজকের প্রজন্ম যদি তাঁর আদর্শ ধারণ করে, তবে সমাজ আরও মানবিক ও সংস্কৃতিবান হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন, মহাসচিব মীযানুর রহমান, সোনারগাঁও উপজেলা কমিটির সভাপতি মোঃ ফজলুল হক ভূইয়া, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ মনির হোসেনসহ অন্যান্য অতিথিরা। তাঁরা বলেন, জনুয়ল আবেদিনের শিল্পকর্ম কেবল নান্দনিকতার প্রকাশ নয়, বরং তা আমাদের ইতিহাস, সংগ্রাম ও পরিবেশ–চেতনার শক্তিশালী দলিল। তাঁর জীবন ও কাজ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এমন আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ অঞ্চল–২ টুরিস্ট পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুল আলম, বাংলাদেশ তথ্য ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশন আঞ্চলিক সাধারণ সম্পাদক কাউসার আহমেদ, কারুশিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন, সংগঠনের সদস্য ও সাংবাদিক মোক্তার হোসেন, ইমরান হোসেন, আল আমিনসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ।
আলোচনা সভা শেষে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি জাদুঘর প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে শিল্প, সংস্কৃতি ও পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেয়। র্যালির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
এই আয়োজনের মাধ্যমে সোনারগাঁয়ে আবারও প্রমাণিত হলো—শিল্পী জয়নুল আবেদিন শুধু অতীতের স্মৃতি নন, তিনি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম।