তরিকুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং হত্যা, ডাকাতি, অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ ১৮টি মামলার আসামি মোঃ দিপুকে বিদেশী পিস্তল, গুলি ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, বন্দর এলাকার কুখ্যাত সন্ত্রাসী দিপু ও তার বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বন্দর ও আশপাশের এলাকাকে আতঙ্কের জনপথে পরিণত করেছিল। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জমি দখল এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে গেলে দিপু বাহিনীকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে হতো। চাঁদা না দিলে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া, মারধরসহ নানা ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ছিল নিয়মিত। এছাড়া শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে পণ্যবাহী ট্রলার ও বাল্কহেড থেকে তার বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত চাঁদা আদায় করত। স্থানীয় ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, দিপু তার বাহিনীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পৈতৃক জমি ও ভিটেমাটি জোরপূর্বক দখল করত। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নামমাত্র মূল্যে জমি লিখে নেওয়া অথবা পেশিশক্তি ব্যবহার করে উচ্ছেদ করা হতো। এলাকায় আধিপত্য বজায় রাখতে দিপু প্রায়ই আগ্নেয়াস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার করত।
এছাড়াও দিপু বাহিনীর ছত্রছায়ায় মদনপুর ও বন্দর এলাকায় মাদকের একটি বড় নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে। তার সরাসরি তত্ত্বাবধানে এলাকায় গাঁজা, ইয়াবা ও ফেন্সিডিল কেনাবেচা হতো বলে জানা যায়। তার এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
র্যাব-১১ জানায়, দিপু ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারে দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে র্যাব-১১ সিপিএসসি’র একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন পূর্ব চাঁনপুর গ্রামে দিপুর বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে তাকে একটি বিদেশী পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, এক রাউন্ড গুলি, একটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি চাকু এবং বেশ কিছু লোহার পাইপসহ গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত দিপু (৩২) নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানার মদনপুর ইউনিয়নের পূর্ব চাঁনপুর গ্রামের মুইচা কালাম ওরফে আবু কালামের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় অন্তত ১৮টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি অস্ত্র মামলা, একটি হত্যা মামলা, আটটি হত্যা চেষ্টা, একটি ডাকাতি, একটি অপহরণ, তিনটি চাঁদাবাজি এবং দুটি মাদক মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।