তরিকুল ইসলাম ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ কবি ও সাহিত্যিক পরিষদ (বাকসাপ)-এর “গুণীজন সংবর্ধনা ও পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী-২০২৬” অনুষ্ঠান। শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এ আয়োজন সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, সমাজসেবক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশন (আইএইচআরসি) ট্রাস্ট-এর আন্তর্জাতিক চেয়ারম্যান আনন্দ মহল সরকার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনন্দ মহল সরকার বলেন, আইএইচআরসি ট্রাস্টের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে “স্বাবলম্বী সারথী প্রকল্প” বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬৪ জেলায় সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া পরিবারের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তিনি আরও বলেন, আত্মকর্মসংস্থান ও মানবিক সহায়তার মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে সম্পৃক্ত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
তিনি উল্লেখ করেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও উন্নত সমাজ গঠনে আইএইচআরসি ট্রাস্ট নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কবি ও সাহিত্যিক পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. ফেরদৌস আলম। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের চেয়ারম্যান মো. মফিকুর রহমান এবং উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা মোশফিকুর রহমান।
বক্তারা সাহিত্যচর্চা, মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা এবং তরুণ প্রজন্মকে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
এছাড়াও মনোজ্ঞ পরিবেশে কবিতা আবৃত্তি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বক্তারা বলেন, সমাজে নৈতিকতা, মানবিকতা ও সাহিত্যচর্চা বিস্তারে বাংলাদেশ কবি ও সাহিত্যিক পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাবিদ, সাহিত্য সংগঠক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠান শেষে গুণীজনদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয় এবং সংগঠনের আগামী দিনের কার্যক্রম নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।