সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার এক কলেজ শিক্ষার্থীকে সৌদি আরবে কফি শপে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক আদম ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রবাসী মাহফুজুর হোসেনের পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভুক্তভোগীর বাবা সোনারগাঁও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শম্ভুপুরা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গাপ্রসাদ (পূর্বপাড়া) গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ স্বপন নামের এক আদম ব্যবসায়ী, মোগরাপাড়া ইউনিয়নের দমদমা গ্রামের কলেজ শিক্ষার্থী ও আইইএলটিএস করা ছাত্র মাহফুজুর হোসেনকে সৌদি আরবে একটি কফি শপে ইংরেজি জানা কর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দেন। থাকা-খাওয়াসহ মাসিক ১,৫০০ সৌদি রিয়াল বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রথম ধাপে মাহফুজের পরিবারের কাছ থেকে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন।
গত ১১ জানুয়ারি মাহফুজুরকে সৌদি আরবের রিয়াদে পাঠানো হলেও সেখানে প্রতিশ্রুত চাকরির পরিবর্তে তিন মাস মেয়াদি ‘ওয়্যারহাউস ওয়ার্কার’ (লোড-আনলোড) সাপ্লাই ভিসায় পাঠানো হয়। রিয়াদে পৌঁছানোর পর একটি কোম্পানিতে সাপ্লাইয়ের কাজ করার জন্য চাপ দেওয়া হলে তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং ওই কাজে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানান।
পরবর্তীতে তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছে। পরে রিয়াদে অবস্থানরত তার এক আত্মীয় তাকে উদ্ধার করে নিজের হেফাজতে নেন।
এ ঘটনায় গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সোনারগাঁও রিপোর্টার্স ক্লাবে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয় যে, মাহফুজকে অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের মাধ্যমে বৈধ আকামা (কাজের অনুমতি) করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় খরচের একটি অংশ আদম ব্যবসায়ী স্বপন বহন করবেন বলে বৈঠকে সম্মতি দেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিশ্রুত অর্থের মধ্যে মাত্র ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করে বাকি টাকা না দিয়ে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করা হয়।
এদিকে, গত ১১ এপ্রিল ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় মাহফুজ সৌদি আরবে অবৈধ হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকার পর গত ২৪ মে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ রিয়াল ব্যয়ে একটি ফুড ডেলিভারি কোম্পানিতে বৈধভাবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা, বৈধ হওয়ার জন্য অতিরিক্ত ব্যয় এবং প্রতিশ্রুত চাকরি না পাওয়ায় গত পাঁচ মাসে বেতন বাবদ ক্ষতিসহ মোট প্রায় ৯ লাখ ৬ হাজার ৫০০ টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আদম ব্যবসায়ী মোহাম্মদ স্বপনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি