নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ
নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শহীদ জিয়া হলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। স্থানীয় সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, ঐতিহাসিক এই স্থানটিকে কেবল একটি সাধারণ মাঠ হিসেবে রেখে দেওয়া হবে, নাকি সংস্কৃতিমনা মানুষের স্বপ্নের একটি আধুনিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে?
সম্প্রতি শহীদ জিয়া হল মাঠটিকে ঘিরে বিভিন্ন মহলের ভিন্ন ভিন্ন মতামতের প্রেক্ষিতে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, মাঠ হিসেবে উন্মুক্ত রাখলে এটি অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদকসেবীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে। অতীতেও এমন অভিজ্ঞতার কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ কাজ করছে।
ইতিমধ্যেই শহীদ জিয়া হল নিয়ে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্প অনুযায়ী, সেখানে নির্মিত হবে বহুতল বিশিষ্ট আধুনিক ভবন। এই প্রকল্পের আওতায় থাকছে একটি আর্ট গ্যালারি, আধুনিক সিনে কমপ্লেক্স ও থিয়েটার হল। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ১২০ কোটি টাকার একটি বাজেট পাসের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে হয়ে গিয়েছে । স্থানীয়দের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জ একটি সত্যিকারের সাংস্কৃতিক নগরী হিসেবে গড়ে উঠবে, যা নতুন প্রজন্মের সৃজনশীল বিকাশে বিশাল ভূমিকা রাখবে।
শহীদ জিয়া হল প্রাঙ্গণে অবস্থিত রাইফেল ক্লাব নিয়ে দীর্ঘদিনের যে ধোঁয়াশা ছিল, তা-ও নিরসনের পথে। দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, রাইফেল ক্লাবটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ফলে মাঠের জায়গাটি পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়ে সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য পথ প্রশস্ত হচ্ছে।
শহীদ জিয়া হলের পুনর্বিনর্মাণ কেবল আবেগতাড়িত কোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও সময়ের দাবি। উন্নয়নের স্বার্থে এবং আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে পরিত্যক্ত বা অনুন্নত মাঠের চেয়ে একটি যুগোপযোগী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এখন সময়ের প্রয়োজন।
স্থানীয় বিশিষ্টজনের মতে, উন্নয়নমূলক এই প্রকল্প নিয়ে নেতিবাচক বা অবাস্তব পরামর্শ প্রদান করা কেবল হাস্যকরই নয়, বরং তা জনস্বার্থবিরোধী। শহীদ জিয়া হলের এই রূপান্তর নারায়ণগঞ্জকে জাতীয় সাংস্কৃতিক মানচিত্রে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এখন প্রয়োজন দ্রুত এই প্রকল্পের বাজেট ছাড় ও যথাযথ বাস্তবায়ন। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, মাঠের দোহাই দিয়ে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত না করে, দ্রুত সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণের মাধ্যমে শহরকে প্রাণবন্ত করে তোলা হোক।