সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আয়োজিত একটি র্যালিতে অংশ নেওয়া নারী সমর্থকদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সদস্য মো. শাহিন আলম জুবায়েরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুম রানার নেতৃত্বে একটি র্যালির আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি কয়েক শতাধিক নারী সমর্থকও এবং মা বোন অংশ নেন।
পরে র্যালির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ওই ভিডিওর মন্তব্যের ঘরে মো. শাহিন আলম জুবায়েরের তার ফেসবুক আইডি থেকে লিখেন —“এলাকার সকল কাজের মহিলা মিছিলে আইসা পরছে।”
মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই মন্তব্যটিকে নারী সমর্থকদের প্রতি অসম্মানজনক ও অবমাননাকর হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নারী ও মা-বোনদের উদ্দেশে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার কতটা শোভন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
এ বিষয়ে কয়েকজন নারী কর্মী ও সমর্থক অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা নারীদের নিয়ে এমন মন্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও অসম্মানজনক। তাদের ভাষ্য, নারী সমাজের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রত্যেক রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীর নৈতিক দায়িত্ব। মতপার্থক্য বা রাজনৈতিক বিরোধ থাকতে পারে, তবে কোনো নারীকে হেয় বা অপমান করে মন্তব্য করা গ্রহণযোগ্য নয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন নারী সমর্থক বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই নিজেদের মত ও সমর্থন প্রকাশ করেন। তাদের সামাজিক পরিচয় বা পেশাকে কেন্দ্র করে কটূক্তি কিংবা অবমাননাকর মন্তব্য করা হলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট নারীদের নয়, বরং সামগ্রিকভাবে নারীর মর্যাদার প্রতি অসম্মান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তারা আরও বলেন, নারীদের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার পরিবর্তে যদি তাদের নিয়ে কটূক্তি করা হয়, তাহলে অনেক নারী নিরুৎসাহিত হতে পারেন। এ ধরনের মন্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল ও সংযত হওয়া প্রয়োজন বলেও মত দেন তারা।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণ নিয়ে এমন মন্তব্যের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন।