
আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের (এপিএসসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়ম ও স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগ বোর্ডের সুপারিশে একজন নির্দিষ্ট প্রার্থীকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ খাতে নতুন আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সাবেক পরিচালক (ক্রয়) ও সাবেক প্রধান প্রকৌশলী (কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স) সাঈদ একরাম উল্লা। সূত্রের দাবি, পিডিবিতে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগের কারণে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর তাকে অবসরে পাঠানো হয়। পরে তিনি বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রা.) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান।
২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি সাঈদ একরাম উল্লাকে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারির নির্দেশনায় এপিএসসিএলকে জানানো হয়, বিদ্যমান চুক্তির মেয়াদ সরাসরি নবায়ন না করে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এমডি নিয়োগ দিতে হবে।
গত ৫ মার্চ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা দুই দফা স্থগিত হওয়ার পর ১৮ জুলাই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যানের সুপারিশে সাঈদ একরাম উল্লার নাম আবারও চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে অনুমোদনের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সেই প্রস্তাব অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
এদিকে, নিয়োগ বোর্ডের নিরপেক্ষতা এবং সুপারিশকৃত প্রার্থীর অতীত প্রশাসনিক রেকর্ড নিয়ে বিদ্যুৎ খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের মধ্যে প্রশ্ন ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে নিয়োগে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।