ফিঙ্গারপ্রিন্ট জালিয়াতি ও অবৈধ সিম নিবন্ধন: ফতুল্লায় দুইজন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:
ফিঙ্গারপ্রিন্ট জালিয়াতি ও অবৈধভাবে সিম নিবন্ধনের মাধ্যমে সাইবার প্রতারণায় জড়িত একটি চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। এ সময় তাদের কাছ থেকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট জালিয়াতি ও অবৈধ সিম নিবন্ধনে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
র্যাব-১১ জানায়, রোববার (২৩ আগস্ট ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার মধ্য নরসিংপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল। অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় মো. মহিউদ্দিন (২৯), পিতা- রুহুল আমিন এবং মো. শিশির (২৭), পিতা- মো. দুলাল হোসেনকে। তারা উভয়েই মধ্য নরসিংপুর এলাকার বাসিন্দা।
অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, একটি প্রিন্টার, একটি রাবার সিল মেশিন, ৮০টি রাবার সিলের প্লাস্টিক স্ট্যান্ড, ৮টি বায়োমেট্রিক স্ক্যানার, ১ হাজার ফিঙ্গারপ্রিন্টের রাবার কিট, ৩৫টি ট্রেসিং পেপার, ১০০টি রবি সিমকার্ড, তিনটি মোবাইল ফোন এবং সচল ও ব্যবহৃত একাধিক সিমকার্ড জব্দ করা হয়।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে সাইবার অপরাধ ও জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানানো হয়েছে।
র্যাব জানায়, চক্রটি অনলাইনের বিভিন্ন মাধ্যম থেকে কৌশলে সাধারণ মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ ও ক্রয় করত। পরে ট্রেসিং পেপারে ওই ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রিন্ট করে রাবার সিল মেশিনের মাধ্যমে কৃত্রিম ফিঙ্গারপ্রিন্ট তৈরি করা হতো। এরপর বায়োমেট্রিক স্ক্যানার ব্যবহার করে কৃত্রিম আঙুলের ছাপের মাধ্যমে অবৈধভাবে সিমকার্ড নিবন্ধন করা হতো।
পরবর্তীতে এসব অবৈধ সিম ব্যবহার করে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও আধুনিক ডিজিটাল ডিভাইসের সহায়তায় বিভিন্ন জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি ও পরিবর্তন করা হতো। এসব ভুয়া এনআইডি ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে বিকাশ, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হতো বলে জানিয়েছে র্যাব।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।