
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি হয়েছে। মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামোর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন কাঠামোয় গ্রেডভেদে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ মন্ত্রিসভা বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো ও ভাতা নির্ধারণসংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেড পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, ১২ থেকে ২০ নম্বর গ্রেড পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির হার ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন পে-স্কেলে গ্রেড-১-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রেড-২-এর বেতন ৬৬ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা, গ্রেড-৩-এর ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা এবং গ্রেড-৪-এর ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।
এ ছাড়া গ্রেড-৫-এর মূল বেতন ৪৩ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৮৬ হাজার টাকা, গ্রেড-৬-এর ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৭১ হাজার টাকা এবং গ্রেড-৭-এর ২৯ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৫৮ হাজার টাকা করা হয়েছে।
গ্রেড-৮-এর বেতন ২৩ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪৬ হাজার টাকা, গ্রেড-৯-এর ২২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৪৪ হাজার টাকা এবং গ্রেড-১০-এর ১৬ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৩২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গ্রেড-১১-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে দ্বিগুণ হয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। গ্রেড-১২-এর বেতন ১১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা, গ্রেড-১৩-এর ১১ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২৪ হাজার টাকা এবং গ্রেড-১৪-এর ১০ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়েছে।
এ ছাড়া গ্রেড-১৫-এর বেতন ৯ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ২২ হাজার ৮০০ টাকা, গ্রেড-১৬-এর ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ২১ হাজার ৯০০ টাকা এবং গ্রেড-১৭-এর ৯ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ২১ হাজার ৪০০ টাকা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গ্রেড-১৮-এর প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ২১ হাজার টাকা, গ্রেড-১৯-এর ৮ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার ৫০০ টাকা এবং সর্বনিম্ন গ্রেড-২০-এর মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো নিয়ে গঠিত ‘বেতন ও চাকরি কমিশন, ২০২৬’ এবং সচিব কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সূত্র আরও জানায়, নতুন বেতনকাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হিসেবে ধরা হতে পারে। তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও বাজেট ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বর্ধিত বেতন-ভাতা ধাপে ধাপে পরিশোধের পরিকল্পনা থাকতে পারে। কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে প্রাপ্য বকেয়া অর্থও পর্যায়ক্রমে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
এর আগে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি এবং নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়ে বিভিন্ন সুপারিশ দেয়।
দুই ধাপে বেতন বৃদ্ধি বাস্তবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় ছিল। প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকরের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছিল।
এর আগে প্রায় এক যুগ পর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন-ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল।
বর্তমানে চালু থাকা অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা। নতুন নবম পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর এখন সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রজ্ঞাপনে ১ থেকে ২০ গ্রেড পর্যন্ত বেতন, বিভিন্ন ভাতা এবং নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিস্তারিত পদ্ধতি উল্লেখ করা হবে।