তরিকুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে রাজনৈতিক সমীকরণ ক্রমেই জটিল রূপ নিচ্ছে। একাধিক পরিচিত ও প্রভাবশালী প্রার্থীর অংশগ্রহণে এই আসনে ভোট বিভাজনের সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতেই আলোচনায় উঠে আসছে একাধিক বিকল্প শক্তির প্রার্থী এবং মাঠপর্যায়ে গড়ে উঠছে নীরব এক নতুন মেরুকরণ।
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের আজহারুল ইসলাম মান্নান, সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন আহমেদ (ফুটবল), সাবেক এমপি ও মন্ত্রী রেজাউল করিম (ঘোড়া), জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডাঃ ইকবাল হোসেন, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের গোলাম মসিহ, ট্রাক প্রতীকের মিল্কি সাহেবসহ আরও বেশ কয়েকজন প্রার্থী। পাশাপাশি শ্রমিক নেতা অঞ্জন দাসের নামও আলোচনায় আসছে ভিন্ন মাত্রায়।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এত সংখ্যক শক্তিশালী প্রার্থীর উপস্থিতি মূলধারার ভোটকে এককেন্দ্রিক না রেখে বহুমুখী করে তুলছে। বিশেষ করে একই ভোটব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল প্রার্থীদের মধ্যে ভোট ভাগ হয়ে গেলে ফলাফলে বড় ধরনের অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন আসতে পারে।
প্রচার-প্রচারণায় প্রতিটি প্রার্থীই ব্যস্ত সময় পার করছেন। গ্রাম থেকে শহর, মহল্লা থেকে ওয়ার্ডে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জকে নতুনভাবে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন সবাই। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও নাগরিক সেবার প্রশ্নগুলো প্রচারের মূল আলোচনায় স্থান পাচ্ছে।
১৭ বছর পর নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। ফলে এই দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাশাপাশি নতুন ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই আসনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তরুণ ও নারী ভোটারদের একটি অংশ যদি পরিবর্তনের বার্তা হিসেবে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে ফলাফলে নতুন মাত্রা যোগ হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ভাষ্য, ধানের শীষের আজহারুল ইসলাম মান্নান, সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন আহমেদ এবং রেজাউল করিমের মধ্যে ভোট বিভাজন ঘটলে মাঠে এক ধরনের নীরব নতুন মেরুকরণ তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে আন্ডারকারেন্ট ভোট কার দিকে যায়, সেটিই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করতে পারে জয়ের মালা কার গলায় উঠবে।
সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের নির্বাচন এবার শুধু পরিচিত নামের লড়াই নয়, বরং ভোটারদের মানসিকতা, অংশগ্রহণ এবং নীরব প্রবণতার ওপর নির্ভর করে এক নতুন রাজনৈতিক হিসাবের জন্ম দিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, শেষ মুহূর্তে কার কৌশল কতটা কার্যকর হয় এবং ভোটের দিন জনগণ কোন বার্তা দেয় ব্যালটের মাধ্যমে।