তরিকুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় যুবক শুভ (২১) অপহরণ ও হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মোঃ আল আমিন ইসলাম ওরফে লাল শুভ (২৪)-কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১১।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত শুভ পেশায় একজন এসি মেকার ছিলেন। প্রায় ৭ থেকে ৮ মাস ধরে এলাকার কিছু বখাটে যুবকের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার বিরোধ চলছিল। আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ দিন আগে এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি রানার সঙ্গে শুভর তর্ক-বিতর্ক হয়। এরপর থেকেই রানা শুভর প্রতি শত্রুতা পোষণ করতে থাকে এবং বিভিন্ন সময়ে প্রাণনাশের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল।
গত ২৯ মার্চ ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে শুভ সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ঢাকেশ্বরী এলাকায় তার শ্বশুরবাড়িতে যান। সন্ধ্যা আনুমানিক ৫টা ৩০ মিনিটে গ্রেফতারকৃত আসামি লাল শুভ তাকে ফোন করে পূর্ব ইসদাইর রেললাইন এলাকায় আসতে বলে। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে শুভ ফতুল্লা থানার ইসদাইর রেললাইন সংলগ্ন ২ নম্বর আসামি কাশেমের ভাঙারি দোকানের সামনে পৌঁছালে লাল শুভসহ অন্যান্য আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে।
একপর্যায়ে গুরুতর আহত হয়ে শুভ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আসামিরা তাকে একটি অটোগাড়িতে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার পরিবার কোনো খোঁজখবর পাচ্ছিল না।
পরবর্তীতে গত ৩১ মার্চ রূপগঞ্জের কাঞ্চন ব্রিজের নিচ থেকে পুলিশ একটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শুভর বলে শনাক্ত করেন। নিখোঁজের সাত দিন পর শুভর নিথর দেহ উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি বিভিন্ন টেলিভিশন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচারিত হলে জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেফতারে র‍্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্য ও সুনির্দিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে র‍্যাব-১১, সিপিএসসি এবং র‍্যাব-১৩, রংপুরের একটি যৌথ আভিযানিক দল আজ ০৬ এপ্রিল ২০২৬ রাত ৩টা ৩০ মিনিটে নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ থানার গাড়াগ্রাম জুম্মারপাড় এলাকা থেকে মামলার অন্যতম আসামি মোঃ আল আমিন ইসলাম ওরফে লাল শুভ (২৪)-কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।