তরিকুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দাদের নিত্যদিনের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ রোগী এবং শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। অনেক এলাকায় দিনে কয়েকবার এবং রাতেও একাধিকবার লোডশেডিং হওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর কখন আসবে, সে সম্পর্কেও নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য না থাকায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষার প্রস্তুতি ও নিয়মিত পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, বিদ্যুতের বারবার আসা-যাওয়ার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। ফ্রিজ, কোল্ড স্টোরেজ, আইসক্রিম, দুগ্ধজাত পণ্য ও অন্যান্য বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসায় উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এছাড়া ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবাও অনেক সময় ব্যাহত হওয়ায় অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা, ফ্রিল্যান্সিং এবং অফিসের জরুরি কাজেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক এলাকায় নিরাপদ বিশুদ্ধ পানির সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটছে, কারণ অধিকাংশ বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক মোটরের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করা হয়।
উপজেলার  এবং সোনারগাঁ পৌরসভার  বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরের ভেতরে অবস্থান করাও কষ্টকর হয়ে উঠেছে। রাতের ঘুম ব্যাহত হওয়ায় কর্মজীবী মানুষের কর্মক্ষমতা কমে যাচ্ছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতির দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, বিদ্যুৎ সংকট পুরোপুরি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অন্তত সম্ভাব্য লোডশেডিংয়ের নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হলে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারবেন এবং দুর্ভোগ কিছুটা কমবে। একই সঙ্গে তারা দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (সোনারগাঁ) জোনাল-১ এর ডিজিএম মো. খোরশেদ আলম জানান, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের চাহিদা প্রায় ১৪৫ মেগাওয়াট, কিন্তু বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০০ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়েই বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, অতীতেও সম্ভাব্য লোডশেডিংয়ের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছিল এবং জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলে সোনারগাঁতেও পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সোনারগাঁবাসীকে এই দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হবে।