তরিকুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ৬ দিন নিখোঁজ থাকার পর অটোরিকশা চালক মাসুদ রানা (৩৫)-এর মরদেহ উদ্ধার হওয়ার চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার অন্যতম এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১১।
র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, নিহত মাসুদ রানা বন্দর থানার সোনাচরা এলাকার বাসিন্দা এবং বাচ্চু মিয়ার ছেলে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৯ জুন ২০২৬ দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে তিনি কাজের উদ্দেশ্যে নিজ বাড়ি থেকে বের হন। এরপর রাতে আর বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
পরবর্তীতে ৪ জুলাই ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে বন্দর থানার ১নং ঢাকেশ্বরী এলাকার বিল্লালের চায়ের দোকানের পেছনের একটি ডোবা থেকে মাসুদ রানার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, এলাকায় মাদক ব্যবসা, চুরি ও ডাকাতিকে কেন্দ্র করে কিছু মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে নিহতের বিরোধ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বিরোধের জের ধরে ২৯ জুন দুপুর থেকে ৪ জুলাই সকাল-এর মধ্যে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ডোবায় ফেলে রেখে যায়।
খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনাটি বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারে র‍্যাব-১১, সিপিসি-১, নারায়ণগঞ্জের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৫ জুলাই ২০২৬ বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে বন্দর থানার ঢাকেশ্বরী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে হত্যা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত অন্যতম আসামি মো. জুম্মান (২৪), পিতা: মো. মনির হোসেন, সাং- রামনগর, থানা: বন্দর, জেলা: নারায়ণগঞ্জকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।