তরিকুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ১২টি মামলার আসামি রাসেল আহমেদকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১১। যৌথ অভিযানে তাকে ঢাকার পান্থপথ এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোনারগাঁওয়ের কুরবানপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় শটগান, ৪ রাউন্ড গুলি ও ১৪টি টেঁটা উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের পাঁচানী, কুরবানপুর ও শান্তিনগর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাসেল আহমেদ একটি প্রভাবশালী ও সহিংস সন্ত্রাসী বাহিনী পরিচালনা করে আসছিল। পিরোজপুর ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় গড়ে ওঠা শিল্পকারখানা, ড্রেজিং এবং আবাসন প্রকল্পে আধিপত্য বিস্তার ছিল এই বাহিনীর মূল লক্ষ্য।

অভিযোগ রয়েছে, ইট, বালু সরবরাহ, স্ক্র্যাপ (ঝুট) ব্যবসা এবং নির্মাণকাজের নিয়ন্ত্রণ নিতে স্থানীয় ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায় করত তারা। এলাকায় প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে বাহিনীর সদস্যরা প্রকাশ্যে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা, টেঁটা ও হকিস্টিক নিয়ে মহড়া দিত।

র‍্যাব আরও জানায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ওপর প্রকাশ্যে গুলি চালানো, টেঁটাবিদ্ধ করে আহত করা, বাড়িঘরে হামলা এবং সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী সংবাদ প্রকাশ করায় স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগও রয়েছে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে।

এসব ঘটনায় রাসেল আহমেদ ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারে র‍্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) রাত ১২টা ১০ মিনিটে র‍্যাব-১১-এর সিপিএসসি এবং র‍্যাব-২-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানার পান্থপথ এলাকা থেকে রাসেল আহমেদকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারের পর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একই দিন সকাল ৫টা ৩০ মিনিটে সোনারগাঁও উপজেলার কুরবানপুর এলাকায় তার বসতবাড়ির পশ্চিম পাশে একটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে ১টি দেশীয় শটগান, ৪ রাউন্ড গুলি এবং ১৪টি টেঁটা উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত রাসেল আহমেদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এবং ঢাকার বিভিন্ন থানায় অন্তত ১২টি মামলা রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সোনারগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।