নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গোপালঝাড় বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে পরীক্ষা ছাড়াই গোপনে দুটি পদে কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির তৎকালীন সভাপতি নিয়োগের বিষয়ে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে প্রধান শিক্ষক অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট হ্যাক করে জালিয়াতির মাধ্যমে এসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য বজলুর রহমান জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কমিটির সদস্য। তবে এই দুটি নিয়োগ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না। অভিযোগ রয়েছে, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা কমিটির অধিকাংশ সদস্যের অগোচরেই সম্পন্ন হয়েছে।
নিয়োগপ্রাপ্ত অফিস সহায়ক জাহিদুল ইসলাম চাকরি পেতে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগ পাওয়া সবুজ ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।
ভুক্তভোগী মো. আলমগীর অভিযোগ করেন, চাকরির আশায় তিনি জমি বিক্রি ও ধার-দেনা করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও তৎকালীন সভাপতির হাতে ৮ লাখ টাকা তুলে দেন। কিন্তু পরে জানতে পারেন, অন্য একজনকে গোপনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হামিদুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কোনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তবে শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা প্রধান শিক্ষকের দাবি ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন। তারা জানান, প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব আইডি ও স্বাক্ষর ব্যবহার করেই নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন-ভাতার বিল পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা নিয়োগের নামে অর্থ লেনদেন ও অনিয়মের এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।