তরিকুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জের সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জেলা সিভিল সার্জনের নিষ্ক্রিয়তা ও সমন্বয়হীনতার কারণে জেলার স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত রয়ে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ও নিম্নআয়ের রোগীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের এক্স-রে বিভাগ প্রায় তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত রোগী বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে অতিরিক্ত খরচে এক্স-রে করাতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
এছাড়া হাসপাতালগুলোতে কিছু চিকিৎসক, নার্স ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্যে রোগীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অনেক রোগীকে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয় এবং হাসপাতালের পরিবর্তে নির্দিষ্ট কিছু বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে উৎসাহিত বা চাপ দেওয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জ সফরকালে হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়া জেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও বিভিন্ন সময় স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, এত নির্দেশনা ও তদারকির পরও কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়ায় জনমনে হতাশা বাড়ছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন এক্স-রে বিভাগ বন্ধ থাকলেও দ্রুত তা চালুর কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয় বলে তারা দাবি করেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সেবা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার ব্যাহত হয় এবং চিকিৎসা ব্যয় অযৌক্তিকভাবে বেড়ে যায়।
এলাকাবাসী দ্রুত এক্স-রে বিভাগ চালু, হাসপাতালের দালালচক্র নিয়ন্ত্রণ, রোগীবান্ধব চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং স্বাস্থ্য খাতের অনিয়মের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।