তরিকুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন জালকুড়ি এলাকায় গৃহবধূ তানিয়া আক্তার (২৪) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার ১৫ দিনের মধ্যে নিহতের স্বামী ও মামলার প্রধান আসামি মো. সোহাগ মিয়া জুলহাসকে (৩৩) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পিবিআই জানায়, গত ২৬ জুলাই তানিয়ার মরদেহ তার নিজ কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের খালা মোছা. নাছিমা আক্তার বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।
তদন্তে উঠে আসে, ফেসবুকের মাধ্যমে তানিয়া ও সোহাগের পরিচয় এবং পরে প্রেমের সম্পর্কের পর পরিবারের অমতে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকত। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় তানিয়াকে মারধরও করতেন সোহাগ।
তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোহাগের অবস্থান শনাক্ত করে পিবিআই। পরে ১১ আগস্ট ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে গাইবান্ধা থেকে নারায়ণগঞ্জগামী একটি দূরপাল্লার বাসে অভিযান চালিয়ে ফতুল্লার সাইনবোর্ড চৌরঙ্গী ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআইয়ের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহাগ তানিয়াকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দাম্পত্য কলহের একপর্যায়ে তিনি তানিয়ার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে মরদেহ কক্ষে রেখে দরজায় তালা দিয়ে পালিয়ে যান।
গ্রেপ্তার সোহাগ মিয়া জুলহাসকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।