সোনারগাঁ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেনিখালি নদীর তীরবর্তী সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে নদী ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নদীর জায়গা দখলের চেষ্টা চললেও সম্প্রতি বাঁশের বেড়া দিয়ে নদীর অংশ ঘিরে বালু ফেলে ভরাটের কাজ করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোনারগাঁ থানা রোডের হাতকোপা মেন্দি ভিটার কাঠপট্টি এলাকার একটি সেলুনের পেছনে, নদীর অপর পারে নদীর তীরবর্তী সরকারি জায়গায় বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। এরপর সেখানে বালু ফেলে নদীর অংশ ভরাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দিনের বেলার পরিবর্তে ভোররাতে এবং সন্ধ্যায় বালু ফেলার কাজ চালানো হচ্ছে, যাতে বিষয়টি অনেকের নজরের বাইরে থাকে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া সরকারি খাস জমি দখল বা অবৈধভাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট ভূমি প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে। নদীর সীমানা, জমির শ্রেণি ও জায়গাটি সরকারি খাস জমি কি না—এসব বিষয় সরকারি রেকর্ড ও সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়রা বলছেন, নদীর জায়গা দখল ও বালু দিয়ে ভরাট অব্যাহত থাকলে মেনিখালি নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, পানি নিষ্কাশনে সমস্যা এবং নদীর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় মেনিখালি নদীর ওই স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করে জায়গাটি সরকারি খাস জমি কি না, নদীর সীমানার মধ্যে পড়ে কি না এবং কারা বালু ভরাট করছে—তা তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নদী ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসন, ভূমি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট পরিবেশ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত বালু ভরাট বন্ধ করে মেনিখালি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা হোক।