তরিকুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অনলাইনে চাকরির ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে যুবকদের একটি বাসায় নিয়ে জিম্মি করে টাকা আদায় ও নির্যাতনের অভিযোগে প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১ ও রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। এ সময় ওই চক্রের কবল থেকে ১০ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব-১১ জানায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সিপিএসসি, নারায়ণগঞ্জ জানতে পারে, একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র চাকরি দেওয়ার কথা বলে কয়েকজন যুবককে কৌশলে জিম্মি করে রাখার পাশাপাশি তাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। পরে ভিকটিমদের উদ্ধারে ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘শপিংমলের সিকিউরিটি সুপারভাইজার’ পদে আকর্ষণীয় চাকরির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। বিজ্ঞাপন দেখে ১০ জন যুবককে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন তারাব পৌরসভার উত্তর রূপসী (কলাবাগান) এলাকার মাস্টার বাড়ির একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে চাকরি হয়েছে বলে জানিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রসেসিং ফি বাবদ ৭ হাজার টাকা করে মোট ৭০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে চাকরি না দিয়ে ওই যুবকদের তিন থেকে চার দিন ধরে বাসাটিতে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, আটক অবস্থায় ভিকটিমদের পর্যাপ্ত খাবার ও পানি দেওয়া হয়নি। তারা খাবার চাইলে কিংবা সেখান থেকে চলে যেতে চাইলে আসামিরা তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
পরে র্যাব-১১, সিপিএসসি, নারায়ণগঞ্জ এবং রূপগঞ্জ থানা পুলিশের একটি যৌথ আভিযানিক দল ৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে রূপসী কলাবাগান এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে প্রতারণা ও জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে চক্রটির মূলহোতাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময় ওই বাসা থেকে ১০ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানার ছুফিবাড়ি এলাকার মৃত আকমল মিয়ার ছেলে সিরাজুল ইসলাম (২৯) এবং পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী থানার চলিতাবানি এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে অমিত হাসান (২৩)।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।