তরিকুল ইসলাম (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে যুবদল নেতা রিপন মিয়াকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এজাহারনামীয় অন্যতম অভিযুক্ত সারোয়ার খানকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১১ ও এসআরবি-১-এর যৌথ আভিযানিক দল। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ফ্লাইওভারের পাশে তানহা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গ্রেপ্তার সারোয়ার খান (২০) নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পাইস্কা গ্রামের মোক্তার খানের ছেলে। তিনি এ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ৩ নম্বর অভিযুক্ত।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাব ইউনিয়নের পাইস্কা এলাকার কলি মার্কেটসংলগ্ন আমিনুল খানের বাড়ির পাশে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত রিপন মিয়া (৪২) ওই এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় যুবদল নেতা ছিলেন।

অভিযোগে বলা হয়, রিপন মিয়া তাঁর ছেলে শাওন ইফাতকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার সময় পূর্বশত্রুতার জের ধরে একদল ব্যক্তি তাঁর ওপর হামলা চালায়। এ সময় বল্লম, চাপাতি, ছেনি ও ধারালো ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করা হয়। প্রাণভয়ে তাঁর ছেলে শাওন ইফাত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। পরে নিহতের ছেলে শাওন ইফাত বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি দায়েরের পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. আব্দুল জব্বার এসআরবি-১১-এর অধিনায়কের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা চেয়ে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে এসআরবি-১১-এর সদর কোম্পানি, নারায়ণগঞ্জ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।

পরবর্তীতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-১১-এর সদর কোম্পানি, নারায়ণগঞ্জ এবং এসআরবি-১, সিপিএসসি, পোড়াবাড়ি, গাজীপুরের একটি যৌথ দল অভিযান পরিচালনা করে সারোয়ার খানকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।