
তরিকুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা কর্তৃক রূপগঞ্জ থানাধীন কাঞ্চন বাড়ৈই পাড়া এলাকায় সংঘটিত আলোচিত সিরিজ ডাকাতির ঘটনার প্রায় চার বছর পর মূল রহস্য উদঘাটন হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সংঘবদ্ধ পেশাদার ডাকাত দলের এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। গ্রেফতারকৃত আসামি বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
পিবিআই প্রধান অ্যাডিশনাল আইজিপি জনাব মোঃ মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় এবং পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম) এর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
তদন্ত চলাকালে পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) রাহেদুল ইসলামের নেতৃত্বে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি চৌকস আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানে নামে। অভিযানে জানা যায়, মামলার সন্দিগ্ধ আসামি হোসেন মিয়া (৩৫), পিতা মৃত আবু সিদ্দিক মিয়া, সাং-বরপা, থানা-রূপগঞ্জ, জেলা-নারায়ণগঞ্জ ইতোমধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানার একটি ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে আটক রয়েছে।
পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা উক্ত আসামিকে রূপগঞ্জ থানার মামলা নং-৩৮, তারিখ-১০/০৪/২০২২, ধারা-৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড মামলায় গ্রেফতার দেখানোর জন্য বিজ্ঞ আদালতে আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে দুই দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রদান করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৯ এপ্রিল দিবাগত রাতে কাঞ্চন বাড়ৈই পাড়া এলাকায় একদল সশস্ত্র ডাকাত তিনটি বাড়িতে পরিকল্পিতভাবে ডাকাতি চালায়। এ সময় ডাকাতরা আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়। ডাকাতির সময় গুলিবিদ্ধসহ একাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন।
ডাকাতরা মোট প্রায় ২০ লাখ ৬০ হাজার টাকা নগদ এবং প্রায় ১৯ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায়।
রিমান্ডে এনে নিবিড় ও কৌশলী জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হোসেন মিয়া নিজে এই ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে এবং সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের অন্যান্য সদস্যদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৮ থেকে ১০টি ডাকাতি মামলা রয়েছে এবং সে একজন পেশাদার ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য।
অদ্য ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে সে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করে।
পিবিআই সূত্র জানায়, এই ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।