কাগজে-কলমে ৫০ শয্যা, বাস্তবে ৩১ শয্যার জনবলেই চলছে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

তরিকুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
জনবল সংকট ও আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন বিকল, বাড়ছে রোগীদের ভোগান্তি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কাগজে-কলমে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও বাস্তবে ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে হাসপাতালটির কার্যক্রম। ফলে প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের। অন্যদিকে প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া নিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে শয্যাসংখ্যা বাড়লেও সে অনুযায়ী জনবল ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না হওয়ায় হাসপাতালটির সেবার পরিধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। জনসংখ্যার তুলনায় পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী নিশ্চিত করা না গেলে রোগীদের চাপ সামলানো এবং মানসম্মত সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
এদিকে বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতালের একমাত্র আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনটি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। এতে বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের দুর্ভোগ বেড়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে তাঁদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে। ফলে সরকারি হাসপাতালে কম খরচে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ থাকলেও মেশিনটি বিকল থাকায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে রোগীদের। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য এ বাড়তি ব্যয় আরও চাপ তৈরি করছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি, দ্রুত আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনটি সচল করার পাশাপাশি হাসপাতালের শূন্য পদগুলো পূরণ, প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি এবং চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তাঁদের মতে, শুধু কাগজে-কলমে শয্যাসংখ্যা বাড়ালেই হবে না; সেই অনুযায়ী চিকিৎসক, নার্স, পরীক্ষা-নিরীক্ষার সরঞ্জাম ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও নিশ্চিত করতে হবে।
সোনারগাঁয়ের বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসার জন্য এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসচ্ছল রোগীদের কাছে সরকারি হাসপাতালই চিকিৎসার অন্যতম ভরসা। এ অবস্থায় হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে একদিকে যেমন রোগীদের ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওপর নির্ভরশীলতাও কমবে।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতা চেয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাসেল আহমেদ ভূঁইয়া জানান, হাসপাতালের প্রয়োজনীয় জনবল ও অন্যান্য সমস্যার সমাধানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় দ্রুত সমস্যাগুলোর সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবল সংকট নিরসন, বিকল আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন সচল করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
সোনারগাঁবাসীর দাবি, ৫০ শয্যার হাসপাতাল যেন বাস্তবেও পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে পরিচালিত হয়। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সুফল যেন সাধারণ মানুষ নিজ এলাকায় থেকেই পেতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ, জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।