সোনারগাঁয়ের নয়াপুরে নোংরা পরিবেশে মিষ্টি তৈরি, ওজনে কারচুপির অভিযোগ; তথ্য সংগ্রহে সাংবাদিকদের বাধা

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে মিষ্টি তৈরির অভিযোগ উঠেছে একটি মিষ্টির কারখানার বিরুদ্ধে। উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের নয়াপুর বাজার এলাকায় কামালের মিষ্টির দোকানের কারখানায় সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশেই বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি তৈরি করা হচ্ছে। তৈরি করা মিষ্টির ওপর ঘুরে বেড়াচ্ছে মাছি ও মশা। পাশাপাশি কারখানার বিভিন্ন স্থানে তেলাপোকার উপস্থিতিও দেখা যায়। এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার জনস্বাস্থ্যের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়া প্যাকেটজাত মিষ্টির ওজন নিয়েও কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি যাচাই ও তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের বাধার মুখে পড়তে হয়। অভিযোগ রয়েছে, তথ্য সংগ্রহের সময় দোকান মালিক কামাল সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। সাংবাদিকদের গায়ের জোরে বের করে দেওয়ার চেষ্টা চালান। তার এমন আচরণে ঘটনাস্থলে উপস্থিত এলাকাবাসীও হতভম্ব হয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা বলেন, কোনো এলাকায় অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা বা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অভিযোগের তথ্য সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের দায়িত্বের অংশ। কিন্তু তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়া কিংবা সাংবাদিকদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খাদ্যপণ্য তৈরির ক্ষেত্রে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা জরুরি হলেও সংশ্লিষ্ট কারখানায় তার কোনো বালাই নেই। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরি ও বিক্রির কারণে ক্রেতারা নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে মিষ্টির দোকানের মালিক কামালের বক্তব্য জানতে সাংবাদিকরা তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একপর্যায়ে তিনি ‘ম্যাজিস্ট্রেটদের দেখার টাইম নাই’ বলেও মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি), কাঁচপুর রাজস্ব সার্কেল ফাইরুজ তাসনিম এবং সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাতকে জানানো হলে তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—খাদ্য তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি কোথায়? অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ, প্যাকেটের ওজনে কারচুপি এবং সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়ার বিষয়গুলো দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের দ্রুত অভিযান, খাদ্যমান পরীক্ষা এবং নিয়মিত তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।