সিদ্ধিরগঞ্জে ১ নং ওয়ার্ডের মাদকসম্রাট ও কুখ্যাত চাঁদাবাজ রবিন গ্রুপ ও রানার অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১ নং ওয়ার্ডের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ রবিন ও রানা নামে দুই সহোদর ভাইয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে ১ নং ওয়ার্ডের হিরাঝিলবাসী। তাদের দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা থাকলেও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, তাদের দুই ভাইয়ের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ১ নং ওয়ার্ডের কিশোরগ্যাং। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১০ তলা ভবনের সামনে যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে তারা নিয়মিত যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা পয়সা, মোবাইল, আংটি, চেইন ছিনতাই করছে । যাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় চলাচল করছে। রাত হলে মহাসড়কের যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করে। তাদের নিয়ন্ত্রণে কিশোরগ্যাং সদস্যরা হীরাঝিল ও বিভিন্ন দোকানপাট থেকে চাঁদা দাবি করছে। কেউ চাঁদা না দিলে তাদেরকে ভয়-ভীতি হুমকি প্রদান করছে। বহুতল ভবনের নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহের জন্য নতুন ভবন নির্মাণকারীদের চাপ দিচ্ছে। কেউ রাজি না হলে তার কাছ থেকে তারা মোট অংকের চাঁদা দাবি করছে। তাদের কথা না শুনলে ভবন নির্মাণে রবিন বাহিনী বাধা দিচ্ছে। এলাকার বিভিন্ন গলিতে রবিন ও রানার নেতৃত্বে কিশোরগ্যাংদের মহড়া চলছে। প্রকাশ্য দিবালোকে তারা মাদক সেবন করছে এবং মাদক বিক্রয় করছে। তাদের ভয়ে এলাকাবাসী মুখ খুলতে সাহস পায় না। হিরাজিল পাইনাদি এলাকায় বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ব্যক্তিরা বাড়িঘর করে সন্তানাদিদের নিয়ে বসবাস করছে। এলাকায় চুরি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা বেড়ে যাওয়ায় তাদের মাঝে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক বাড়িওয়ালা বলেন, আমি দশ বছর আগে সৌদি আরবে ছিলাম, সেখান থেকে এসেই পাইনাদি এলাকায় ছয় তলা বাড়ি নির্মাণ করেছি, পরিবার নিয়ে বসবাস করছি। কিন্তু এলাকার মাদক ব্যবসা বেড়ে যাওয়ায় আমাদের সন্তানদেরকে মাদকমুক্ত সুন্দর পরিবেশে গড়ে তুলতে দিতে পারছিনা। এলাকার উশৃংখল বকাটে ছেলেদের সাথে আমাদের সন্তানরা মিশে গেলে আমাদের স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে। অনেক পিতা মাতা তাদের কন্যা সন্তানদের নিরাপত্তার ব্যাপারেও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এলাকাবাসী আরো বলেন হিরাজিল ও পাইনাদী এলাকায় চুরি ছিনতাই ও মাদক মুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে হলে রবিন ও রানার ব্যাপারে প্রশাসনের আরো কঠোর নজরদারি প্রয়োজন রয়েছে।