নারায়ণগঞ্জ বন্দরের শীর্ষ সন্ত্রাসী সুজন গ্রেফতার বিদেশী রিভলভার ও ৭ রাউন্ড গুলিসহ আটক ২

নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের নাম হয়ে ওঠা শীর্ষ সন্ত্রাসী সুজনকে বিদেশী রিভলভার ও ৭ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১। এ সময় তার এক সহযোগীকেও আটক করা হয়।
গ্রেফতার সুজন বন্দর ও আশপাশের এলাকায় মাদক, চাঁদাবাজি, জমি দখল ও আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে একটি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণ শুরু হলে তার বাহিনীকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে হতো বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া, মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো ছিল নিয়মিত ঘটনা।
শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে পণ্যবাহী ট্রলার ও বাল্কহেড থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করত তার বাহিনী। পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও মাসিক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ মানুষের পৈতৃক জমি ও বসতভিটা জোরপূর্বক দখল করে নামমাত্র মূল্যে দলিল করিয়ে নেওয়া কিংবা পেশিশক্তি প্রয়োগ করে উচ্ছেদ করাও তার পরিচিত কৌশল ছিল।
মদনপুর ও বন্দর এলাকায় গাঁজা, ইয়াবা ও ফেন্সিডিলের একটি বড় মাদক নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে সুজন বাহিনীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে। আধিপত্য বজায় রাখতে সে প্রায়ই সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার করত বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সুজন ও তার সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে র্যাব-১১, সিপিএসসি-এর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বন্দর থানাধীন চানপুর গ্রামে সুজনের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে ১টি বিদেশী রিভলভার ও ৭ রাউন্ড গুলিসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী মোঃ সুজন (২৯), পিতা: কানা মতিন এবং তার সহযোগী মোঃ রুবেল (৩৫), পিতা: মৃত আলীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের উভয়ের বাড়ি বন্দর থানাধীন চানপুর গ্রামে।
র্যাব জানায়, গ্রেফতারকৃত সুজনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় অস্ত্র, ডাকাতি ও হত্যা মামলাসহ অন্তত ২২টি মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।