
তরিকুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
বর্তমান সমাজে ‘পরকীয়া’ এক চরম নৈতিক অবক্ষয় ও মহামারির রূপ ধারণ করেছে। এই সামাজিক ব্যাধির কারণে ভেঙে যাচ্ছে হাজারো পরিবার, বিপথগামী হচ্ছে সন্তান এবং প্রতিনিয়ত ঝরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ। সমাজ ও পরিবার ধ্বংসের এই মূল ঘাতক ‘পরকীয়া’র বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ও যুগোপযোগী আইন পাসের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) নারায়ণগঞ্জ মহানগরের ১৪ নং ওয়ার্ড যুগ্ম আহবায়ক হারুন অর রশিদ,
এক বিবৃতিতে জাসাস নেতা হারুন বলেন,
”বর্তমান সময়ে এই পরকীয়ার বলি হচ্ছে শত শত নারী, পুরুষ ও তাদের আদরের সন্তানেরা। শুধুমাত্র আইনের সুস্থ ও কঠোর প্রয়োগের অভাব এবং অসুস্থ মন-মানসিকতার কারণে হাজারো মানুষ পরকীয়ায় লিপ্ত হয়ে নিজের সর্বস্ব শেষ করছে। একই সাথে তারা পুরো পরিবার ও সমাজকে ঠেলে দিচ্ছে এক অন্ধকার ধ্বংসের পথে।”
বিবৃতিতে হারুন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আজ আমাদের সমাজ এক চরম নৈতিক অবক্ষয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। যে সুদৃঢ় পারিবারিক বন্ধন চিরকাল বাঙালি সংস্কৃতির মূল ভিত্তি ছিল, তা আজ এক অদৃশ্য ভাইরাসে আক্রান্ত। আর সেই বিধ্বংসী ভাইরাসের নাম ‘পরকীয়া’। সাম্প্রতিক সময়ে এই সামাজিক ব্যাধিটি জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি কেবল একটি সম্পর্ক ভাঙার মধ্যেই এখন সীমাবদ্ধ নেই; বরং এর জেরে খুন হচ্ছেন স্বামী, নৃশংসভাবে হত্যা করা হচ্ছে স্ত্রীকে।
হারুন আরও বলেন, প্রতিদিনই পত্রিকার পাতা খুললে বা নিউজ পোর্টালে চোখ রাখলে পরকীয়ার ভয়ঙ্কর সব পরিণতি চোখে পড়ে। এমনকি নিজের অবুঝ সন্তানকে বিষ খাইয়ে বা শ্বাসরোধ করে হত্যা করার মতো পৈশাচিক ঘটনাও ঘটছে অবলীলায়।
যে সন্তান বাবা-মায়ের ভালোবাসায় বড় হওয়ার কথা, তারা আজ পরকীয়ার বলী হয়ে হয় প্রাণ হারাচ্ছে, না হয় মানসিক ট্রমার শিকার হয়ে অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে। একটি পরকীয়া সম্পর্ক শুধু দুটি মানুষকে ধ্বংস করে না, একটি পুরো পরিবারকে সামাজিকভাবে পঙ্গু করে দেয়।
ডিজিটাল যুগের অপব্যবহার, নৈতিক শিক্ষার অভাব এবং আইনি শিথিলতার সুযোগ নিয়ে এই ব্যাধি মহামারি আকার ধারণ করেছে উল্লেখ করে হারুন অর রশিদ বলেন, বর্তমান আইনে পরকীয়ার যে শাস্তির বিধান রয়েছে, তা এই আধুনিক সময়ের অপরাধের ভয়াবহতার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল ফলে অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে এবং সমাজে অপরাধের প্রবণতা জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলেছে।
দেশের মানুষের জানমাল রক্ষা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জাসাস এর এই নেতা । তিনি বলেন, পরকীয়া আজ আর কোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিষয় নয়, এটি এখন একটি মারাত্মক সামাজিক অপরাধ ও নিরাপত্তার হুমকি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এই বিষয়টিকে দয়া করে সাধারণভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। একটি সুস্থ প্রজন্ম ও নিরাপদ সমাজের স্বার্থে এই পরকীয়ার বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদে দ্রুত কঠোর ও যুগোপযোগী আইন পাস করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
আইনে কেবল অপরাধের সাধারণ শাস্তি নয়, বরং পরকীয়ার কারণে সৃষ্ট হত্যা ও সহিংসতার জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান হারুন।
বিবৃতির শেষাংশে জাসাসের এই নেতা বলেন, শুধু আইন দিয়ে সব বন্ধ করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা ও পারিবারিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ। তবে অপরাধীদের মনে ভয় ধরাতে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে দ্রুত ন্যায়বিচার দিতে একটি কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনের কোনো বিকল্প নেই।
হারুন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকার প্রধান অতি দ্রুত এই ধ্বংসাত্মক ব্যাধি থেকে সমাজকে বাঁচাতে এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।