
তরিকুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মামুন হোসেনকে গুলি করে হত্যার ঘটনার এজাহারভুক্ত ২নং আসামি সুমন হোসেনকে র্যাব-১১ ও ফতুল্লা থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ আমার অহংকার—এই স্লোগান ধারণ করে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, জঙ্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, চাঞ্চল্যকর হত্যাসহ বিভিন্ন আলোচিত অপরাধী গ্রেফতারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযানের ধারাবাহিকতায় অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে গ্রেফতার করে র্যাব জনগণের আস্থা অর্জন করেছে।
ফতুল্লা থানার পূর্ব লালপুর এলাকার সুমন আলী বেপারীর ছেলে মো. মামুন হোসেন স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ইট–বালু–সিমেন্টের ব্যবসায়ী ছিলেন। “মা-বাবার দোয়া ট্রেডার্স” নামে তার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
গত ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, শুক্রবার ভোরে ইট আনতে প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পূর্ব পরিচিত মো. সুমন হোসেনসহ একদল লোক মামুনের বাসায় এসে তাকে কথা বলার কথা বলে দোকানের সামনে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর ২০–২৫ জন আসামি মামুনকে রেললাইনের পূর্ব পাশে খালি জায়গায় দাড় করিয়ে সারিবদ্ধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে। হঠাৎ আসামি সুমন মামুনের ডান চোখে গুলি করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। দ্রুত উদ্ধার করে খাঁনপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার (৩৯) বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ বিকেল ৪টায় র্যাব-১১, সদর কোম্পানি, নারায়ণগঞ্জ এবং ফতুল্লা থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে কাঠেরপুল এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় এজাহারনামীয় ২নং আসামি মো. সুমন হোসেন (৩৫)–কে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরজন্য তাকে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।