
সোনারগাঁও প্রতিনিধি –
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় আবারও সরকারি খাস জমির দখল ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মোগরাপাড়া ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আশরাফ উদ্দিনকে। গত ৩০ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) সকাল ১০টার দিকে সোনারগাঁও উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (এসিল্যান্ড) তৌফিকুর রহমান আলাবদী গ্রামের মেনিখালী মৌজায় অবস্থিত আরএস ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারি জমি দাগ নং ৩৭৪ ও ৩৭৫—মোট ২৩ শতাংশ জমি দখলমুক্ত করার নির্দেশ দেন।
এ সময় সরকারি জমিতে দখলমুক্ত করার নির্দেশনা উল্লেখ করে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর আগেও একই পরিমাণ সরকারি নাল জমি দখলমুক্ত করার জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে আশরাফ উদ্দিন প্রভাব খাটিয়ে জমিটি দখলে নিয়ে মাটি ভরাট করেন এবং বাঁশের বাউন্ডারি দিয়ে নিজের আয়ত্তে নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ওই খাস জমির দুই পাশেই আশরাফ উদ্দিন ব্যক্তিগতভাবে জমি ক্রয় করেছেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকায় একটি মাদ্রাসা নির্মাণের উদ্যোগের কথা বলে সরকারি জমি দখল করে নেন। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলকে ‘ম্যানেজ’ করে দখল বহাল রাখার অভিযোগও উঠে।
দীর্ঘ এক বছর পর পুনরায় উপজেলা প্রশাসন জমিটি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে বাউন্ডারি অপসারণসহ জমি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করে। এ বিষয়ে আশরাফ উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, তিনি সোনারগাঁও উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা তৌফিকুর রহমানের সকল নির্দেশনা মেনে চলবেন।
এ সময় মোগরাপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি জমি নিয়ম অনুযায়ী ক্রয় বা বন্দোবস্ত না নিয়ে আশরাফ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে সুকৌশলে দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—চেয়ারম্যান হওয়ার আগেই যদি সরকারি জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করা হয়, তবে নির্বাচিত হলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? একজন জনপ্রতিনিধির নীতি ও নৈতিকতাই পারে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে—এমন মন্তব্য করেন সচেতন মহল।