
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে সিসিইউতে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অবাধ বিচরণ ক্ষোভে ফুঁসছেন রোগীর স্বজনরা, তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা দাবি
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় অবস্থিত প্রো-এ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউতে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অবাধ চলাচলের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে বুকে ব্যথা নিয়ে সোনারগাঁও থেকে হযরত (৬০) নামে এক রোগীকে প্রো-এ্যাকটিভ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ইমার্জেন্সিতে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে দ্রুত সিসিইউতে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। হাসপাতালের নিয়ম মেনেই রোগীকে সিসিইউতে ভর্তি করা হয়।
পরদিন বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রোগীর একজন স্বজন রোগী দেখতে হাসপাতালে গেলে কর্তৃপক্ষ জানায়, সিসিইউতে প্রবেশের আগে গাউন পরা বাধ্যতামূলক। নিয়ম অনুযায়ী গাউন পরে সিসিইউর সামনে গেলে তিনি দেখতে পান, সেখানে একাধিক ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি কোনো ধরনের সুরক্ষা পোশাক ছাড়াই ভিড় করে অবস্থান করছেন। ঠিক সেই সময় একজন প্রতিনিধি কোনো ড্রেস কোড বা স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই সিসিইউতে প্রবেশ করেন। বিষয়টি রোগীর স্বজন মোবাইলে ভিডিও ধারণ করলে অন্য প্রতিনিধিরা দ্রুত সেখান থেকে সরে যান।
এ বিষয়ে প্রো-এ্যাকটিভ হাসপাতালের পরিচালক নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এই বিষয়ে সিইওর সঙ্গে কথা বলুন।” সিইওর মোবাইল নম্বর চাইলে তিনি হাসপাতালে এসে সরাসরি কথা বলতে বলেন।
রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, “আইসিইউ ও সিসিইউ অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানে সাধারণ স্বজনদেরও কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রবেশ করতে হয়। অথচ ওষুধ কোম্পানির লোকজন দলে দলে ঢুকছে, কোনো নিয়ম মানছে না। এতে আমাদের রোগীদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।”
তাদের আরও অভিযোগ, এই হাসপাতালে চিকিৎসার নামে দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে আইসিইউ ও সিসিইউ বাণিজ্য চালানো হচ্ছে। সাধারণ রোগীকে প্রথমে ওয়ার্ডে ভর্তি রেখে পরে ভয় দেখিয়ে আইসিইউ বা সিসিইউতে পাঠানো হয়। এরপর দীর্ঘ সময় সেখানে রেখে অতিরিক্ত ওষুধ ও টেস্ট করিয়ে বিপুল অঙ্কের বিল আদায় করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর শেষ পরিণতি মৃত্যু বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।
নবজাতক শিশুদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ উঠে এসেছে। স্বজনদের দাবি, শিশুদের আইসিইউ ও সিসিইউতে রেখে জিম্মি করে ওষুধ ও টেস্ট বাণিজ্য চালানো হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জে সিসিইউ এবং আইসিইউ হসপিটাল কম থাকায় তারা রোগীদের জিম্মি করে এই বাণিজ্য করে যাচ্ছে। আরো জানা গেছে, প্রতি ১০ জন রোগীর মধ্যে অন্তত ৫ জনের মৃত্যু হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এ অবস্থায় ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনরা প্রো-এ্যাকটিভ হাসপাতালের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ওষুধ ও টেস্ট বাণিজ্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
উপরোক্ত গুরুতর অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগীরা।