
তরিকুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জে বাড়ির নিরাপত্তা প্রহরীকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার অন্যতম আসামি রাহাতকে রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১।
র্যাব জানায়, “বাংলাদেশ আমার অহংকার” এই স্লোগান নিয়ে র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, জঙ্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র-মাদক উদ্ধার, চাঞ্চল্যকর হত্যা এবং আলোচিত মামলার আসামিদের গ্রেফতারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ধারাবাহিক গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযানিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব জনগণের আস্থা অর্জন করেছে।
এরই ধারাবাহিকতায়, র্যাব-১১ সদর কোম্পানি, নারায়ণগঞ্জ ও র্যাব-১ উত্তরা-এর একটি যৌথ অভিযানিক দল ১২ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখ বিকাল ৪ ঘটিকার সময় ঢাকার উত্তরা এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি রাহাত (২৮), পিতা—আঃ জব্বার, সাং—মহসিন ক্লাবের গলি, থানা—নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল, জেলা—নারায়ণগঞ্জ-কে গ্রেফতার করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর ২০২৫ ইং তারিখ বেলা ১২টার দিকে এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এজাহারনামীয় ৮ নম্বর আসামি রাহাতসহ আরও ১০-১২ জন আবু হানিফ (৩০), পিতা—আবুল কালাম, মাতা—পারুল বেগম, সাং—খানপুর, পেশা -নিরাপত্তা প্রহরী (জিতু ভিলা)-কে তার বাসা থেকে ডেকে নেয়।
প্রথমে তাকে নারায়ণগঞ্জ সেন্ট্রাল হাসপাতালের বিপরীতে সুন্দরবন মাঠে নিয়ে পিটানো হয়। পরে জোড়া ট্যাংকির মাঠে আরও একদল উচ্ছৃঙ্খল জনতা জড়ো হয়ে আবারও মারধর করে। সর্বশেষ দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে খানপুর মেট্রো হলের পশ্চিম পাশে একটি ফাঁকা জায়গায় নিয়ে গিয়ে ইট, লাঠি, ঘুষি ও লাথি মেরে গুরুতর জখম করা হয়।
স্থানীয়রা আহত অবস্থায় আবু হানিফকে খানপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেদিন রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।ঘটনার পর নিহতের ভাই মো. হযরত আলী (২৬) বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়ের করেন।
গ্রেফতারকৃত আসামি রাহাতকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।