
তরিকুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের জিমখানা সংলগ্ন লেক থেকে অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাথে জড়িত প্রধান আসামিদের একজন মো. লিমন হোসেনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১১)।
বাংলাদেশ আমার অহংকার—এই স্লোগান নিয়ে র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, জঙ্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, চাঞ্চল্যকর হত্যাসহ বিভিন্ন আলোচিত মামলার আসামি গ্রেফতারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। গোয়েন্দা নজরদারি ও নিয়মিত আভিযানিক কার্যক্রমের মাধ্যমে অপরাধীদের দ্রুততম সময়ে গ্রেফতারের ফলে র্যাব জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত রমজান (২৩) কয়েক বছর আগে বিবাহ করে বন্দর থানার একটি এলাকায় স্ত্রীসহ বসবাস করতেন। ব্যবসায়িক সূত্রে রমজানের সাথে জিমখানার তানভীর, শাহ আলম বাবু, ছোট বাবু, জাহিদ, নাদিম ও মো. লিমনসহ আরও ১০-১২ জনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
ধীরে ধীরে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হলে রমজানকে বিভিন্ন সময় লিমনসহ অন্যান্যরা হত্যার হুমকি প্রদান করত। বিষয়টি রমজান তার মায়ের কাছেও জানান।গত ১০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ রাতে আনুমানিক ২টার দিকে রমজান মন্ডল পাড়া ব্রিজের পাশে একটি চায়ের দোকানে যান। এরপর তিনি আর বাসায় ফেরেননি।
পরদিন ১১ অক্টোবর রাত ১২টা ৫ মিনিটে, মন্ডল পাড়া জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন মো. ইমন লেকের পানিতে ভাসমান অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ দেখতে পান। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে। পরে বিভিন্ন সূত্রে নিহতের মা জানতে পারেন, লেক থেকে উদ্ধার করা লাশটি তার ছেলে রমজানের।
এ ঘটনায় রমজানের মা লিমনসহ মোট ৬ জনের নামে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ রাত ৮টা–এর দিকে র্যাব-১১ সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল জিমখানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামি মো. লিমন হোসেনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত লিমনের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় অন্তত ১১টি মামলা রয়েছে বলে র্যাব জানিয়েছে।
পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।