
তরিকুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ঢাকা, ১ মে ২০২৬: আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশন (আইএইচআরসি) ট্রাস্টের উদ্যোগে অবহেলিত, অসহায় ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনটির দক্ষিণ এশিয়া কার্যনির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান আনন্দ মহল সরকার বলেছেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতেই “স্বাবলম্বী সারথী প্রকল্প” হাতে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি দেশবাসী ও শ্রমজীবী মানুষের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, শ্রমিকরাই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম, ঘাম ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশের শিল্প, কৃষি, নির্মাণ ও উৎপাদন খাত এগিয়ে যাচ্ছে। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা শুধু দায়িত্ব নয়, এটি মানবিক ও সাংবিধানিক কর্তব্য।
তিনি বলেন,
“শ্রমিকের অধিকার কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়, এটি একটি মৌলিক মানবাধিকার। ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, চিকিৎসা সুবিধা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।”
এবারের মে দিবসের প্রতিপাদ্য—
‘শ্রমিকের অধিকারই মানবাধিকার—ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হোক’
উল্লেখ করে আনন্দ মহল সরকার বলেন, এখনও দেশের অনেক শ্রমিক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন এবং ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ, দিনমজুর, নারী শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নানা বৈষম্য ও অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছেন।
তিনি আরও জানান, “স্বাবলম্বী সারথী প্রকল্প”-এর আওতায় প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্র ঋণ সহায়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া মানুষদের আত্মনির্ভরশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নারী ও তরুণদের জন্য বিশেষ কর্মমুখী প্রশিক্ষণ এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
আইএইচআরসি ট্রাস্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়ন, বেকারত্ব হ্রাস এবং সামাজিক বৈষম্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আনন্দ মহল সরকার সরকার, মালিকপক্ষ, শ্রমিক সংগঠন এবং সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি শ্রমিক অধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শ্রমিকবান্ধব নীতি ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা গেলে দেশ আরও সমৃদ্ধ ও উন্নত হবে।
শেষে তিনি বলেন,
“আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি ন্যায্য, মানবিক, বৈষম্যহীন ও শোষণমুক্ত সমাজ গড়ে তুলি, যেখানে প্রতিটি শ্রমিক ও মানুষ মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার পাবে।”