
তরিকুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় নিখোঁজের এক দিন পর আকলিমা আক্তার আলিফা (১১) নামে এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রধান আসামি ফয়সাল ওরফে বাদশাকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) ভোরে বন্দর থানাধীন দড়ি সোনাকান্দা এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ভাড়াবাসার সামনের গলির রাস্তা থেকে পুলিশ নিহত স্কুলছাত্রী আলিফার মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত আলিফা ওই এলাকার আলী মিয়ার মেয়ে এবং দড়ি সোনাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২১ ডিসেম্বর বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে আলিফা খেলাধুলার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরদিন ২২ ডিসেম্বর ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে একই গ্রামের ইয়াছমিন ও তার স্বামী আক্তার হোসেন আলিফার মাকে জানান, আক্তার হোসেনের ভাই দেলোয়ার হোসেনের বাড়ির সামনে রাস্তায় একটি মেয়ের মরদেহ পড়ে আছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি আলিফার বলে শনাক্ত করেন।
পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি নারায়ণগঞ্জ জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহত আলিফার মা পারভিন (৪৮) বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচারিত হয়।
ঘটনার পরপরই জড়িতদের গ্রেফতারে র্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১১ সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে বন্দর থানাধীন সোনাকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোঃ ফয়সাল ওরফে বাদশা (৩০), পিতা মোঃ মানিক চান, সাং- সোনাকান্দা, থানা- বন্দর, জেলা- নারায়ণগঞ্জকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।