মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
র‍্যাব-১১-এর অভিযানে বন্দরে ৯ হাজার ৫৫০ পিস ইয়াবাসহ ৪ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির ওরিয়েন্টেশন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত সোনারগাঁয়ে স্বদেশ পরিবহনের চালকের বিরুদ্ধে যাত্রীকে কামড়ে আহত করার অভিযোগ মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় আইএইচআরসি ট্রাস্টের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটি আংশিক নেতৃত্ব ঘোষণা। শহীদ জিয়া হলের রূপান্তর: উন্নয়ন নাকি মাদকের অভয়ারণ্য? জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন প্রয়োজন জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক বি. আর. বিলকিসকে ফুলেল শুভেচ্ছা রূপগঞ্জ থানার এএসআই অজয় কুমারের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও অরাজকতা রুখতে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার দাবি হারুন এর হাজীগঞ্জ ফেরীঘাটে র‍্যাবের অভিযান: বিদেশি পিস্তলসহ অস্ত্রধারী গ্রেপ্তার সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে বিশেষ অভিযানে ১৮ বোতল স্কাফ সিরাপসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

মাসুম বিল্লাহ হত্যা মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইয়াছিন আলী নান্নুকে জড়ানোর অভিযোগ, সুষ্ঠু তদন্তের দাবি

  • প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬
  • ৯৩ বার পড়া হয়েছে
১৫২

জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানায় দায়েরকৃত বহুল আলোচিত মো. মাসুম বিল্লাহ হত্যা মামলায় ৫ নম্বর আসামি হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া নওগাঁ সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি মো. ইয়াছিন আলী নান্নুকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে দাবি করা হচ্ছে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৬ মে ২০২৬ তিলকপুর এলাকায় সংঘটিত মাসুম বিল্লাহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৭ মে আক্কেলপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয় (কেস নং-১৯/৭৩)। মামলায় তিলকপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের টানা তিনবারের নির্বাচিত সদস্য এবং সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. ইয়াছিন আলী নান্নুকে ৫ নম্বর আসামি করা হয়।
ইয়াছিন আলী নান্নুর সমর্থক ও স্থানীয়দের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং সাধারণ মানুষের কাছে একজন জনপ্রিয় প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত। তাঁর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত একটি মহল পরিকল্পিতভাবে মামলায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করিয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে মো. ইয়াছিন আলী নান্নু বলেন, “আমি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই। ঘটনার সময় আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। সে সময় আমি রেলস্টেশন এলাকার একটি চা-স্টলে বন্ধুদের সঙ্গে অবস্থান করছিলাম। আমার কাছে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রমাণও রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা প্রকৃতপক্ষে জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাই। তদন্তে যদি আমার বিরুদ্ধে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে যে কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেব।”
এদিকে, ঘটনার প্রধান সাক্ষী ও নিহতের বন্ধু রাজের বক্তব্যও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাজ জানান, ঘটনার দিন তিনি এবং মাসুম বিল্লাহ একই মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন। পথে ১০ থেকে ১২ জন যুবক তাদের ওপর হামলা চালায়।
রাজের ভাষ্যমতে, “হামলাকারীদের মধ্যে শিবলু নামে একজনকে আমি চিনতে পেরেছি। সে-ই প্রথম দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। অন্যদের আমি চিনতে পারিনি।”
মামলার ৫ নম্বর আসামি ইয়াছিন আলী নান্নু ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে রাজ দাবি করেন, “নান্নু মেম্বার সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিলকপুর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা, সমর্থক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা মামলার নিরপেক্ষ, তথ্যপ্রমাণভিত্তিক ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তবে মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews