
সোনারগাঁ—ঈসাখাঁর রাজত্ব থেকে আজকের অবহেলা
সোনারগাঁ একসময় ছিল বাংলার গৌরবময় প্রাচীন রাজধানী। এই জনপদের ইতিহাস জড়িয়ে আছে বাংলার বীর সন্তান, বারো ভূঁইয়াদের নেতা ঈসাখাঁর নামের সঙ্গে। মুঘল আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা রক্ষায় যিনি সাহসিকতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, সেই ঈসাখাঁর শাসনামলেই সোনারগাঁ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়েছিল।
ইতিহাসবিদদের মতে, ঈসাখাঁ ছিলেন প্রজাবান্ধব, দূরদর্শী ও ন্যায়পরায়ণ শাসক। তাঁর রাজত্বে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন, বাণিজ্যিক পথ ও নদীপথের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত ছিল। তিনি জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে শাসন পরিচালনা করতেন বলেই সোনারগাঁ হয়ে উঠেছিল শক্তিশালী রাজধানী ও সমৃদ্ধ জনপদ।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—ঈসাখাঁর মতো একজন সাহসী ও জনকল্যাণমুখী শাসক আজ কেন নেই? কেন ইতিহাসের সেই গৌরবের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা যাচ্ছে না? প্রাচীন রাজধানীর মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও আজ সোনারগাঁ অবহেলিত। অবকাঠামোর সংকট, জলাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণ, ঐতিহ্য সংরক্ষণে উদাসীনতা ও পরিকল্পনার অভাবে এই জনপদ তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব হারাতে বসেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, আজ সোনারগাঁর প্রয়োজন ঈসাখাঁর আদর্শে গড়া নেতৃত্ব—যিনি হবেন সাহসী, সৎ, জনমুখী ও ইতিহাস-সচেতন। এমন নেতৃত্বই পারে প্রাচীন রাজধানীর মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে, ঐতিহ্য রক্ষা করতে এবং আধুনিক উন্নয়নের সঙ্গে ইতিহাসকে সংযুক্ত করতে।
তারা আরও বলেন, সোনারগাঁ অবহেলিত হওয়ার মূল কারণ হলো দীর্ঘদিনের পরিকল্পনাহীনতা ও দায়হীনতা। ইতিহাসকে সম্মান না করলে ভবিষ্যৎও সম্মান দেয় না—এই সত্য উপলব্ধি করে এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
ঈসাখাঁর রাজত্ব আমাদের শিখিয়ে যায়, শক্তিশালী রাষ্ট্র ও জনপদ গড়ে ওঠে সঠিক নেতৃত্ব ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে। সেই শিক্ষা অনুসরণ করলেই সোনারগাঁ আবার ফিরে পেতে পারে তার হারানো গৌরব।
মোঃহোসাইন
চেয়ারম্যান
পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি