
তরিকুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার এশিয়ান হাইওয়েতে সড়ক সংস্কার কাজের সুযোগ নিয়ে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় লুণ্ঠিত ১ হাজার ৮৭৫ কেজি রিসাইকেল প্লাস্টিক কুচি ও ডাকাতি হওয়া পিকআপভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (২৫ মে) দুপুরে সোনারগাঁ থানা পুলিশ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— কামরুল হাসান, আকরাম, রফিকুল ইসলাম, পারভেজ, সোহাগ, রাসেল ও সুমন।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২৩ মে) দিবাগত রাত পৌনে ৫টার দিকে সোনারগাঁ উপজেলার ললাটি এলাকার এশিয়ান হাইওয়ের অলিম্পিক বিস্কুট ফ্যাক্টরির পশ্চিম পাশে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
মামলার বাদী খলিলুর রহমান জানান, তালতলা বাজারের জুগিরপাড়া এলাকা থেকে ব্যবসায়ী আব্দুর রহমানের ৭৫ বস্তা রিসাইকেল প্লাস্টিকের দানা বা কুচি একটি মিনি পিকআপভ্যানে করে কুমিল্লায় নেওয়া হচ্ছিল। প্রতিটি বস্তায় ২৫ কেজি হিসেবে মোট ১ হাজার ৮৭৫ কেজি প্লাস্টিক কুচির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা।
পথে এশিয়ান হাইওয়ের ললাটি এলাকায় পৌঁছালে ৯-১০ জনের একটি দল সড়ক সংস্কার কাজের ভান করে গাড়িটি থামানোর সংকেত দেয়। গাড়ি থামানোর সঙ্গে সঙ্গে ডাকাতরা রামদা, চাইনিজ কুড়াল ও লোহার পাইপ নিয়ে পিকআপে উঠে চালককে মারধর করে। পরে পিকআপভ্যান, মালামাল, নগদ টাকা ও গাড়ির কাগজপত্র লুট করে চালককে একটি নির্জন স্থানে ফেলে রেখে যায়।
এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়েরের পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ারের নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল উদ্দীন এবং তালতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল হকের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে সোনারগাঁয়ের ললাটি এলাকা থেকে রাসেলসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বন্দর থানার সাহারা গার্ডেন এলাকার একটি পরিত্যক্ত কারখানা থেকে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া এশিয়ান হাইওয়ের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় ডাকাতি হওয়া পিকআপভ্যানটিও উদ্ধার করে পুলিশ।
তালতলা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল হক বলেন, “এশিয়ান হাইওয়ের বিভিন্ন স্থানে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও সংস্কার কাজ চলমান থাকায় যানজট সৃষ্টি হয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্র ডাকাতি করে আসছিল।”
সোনারগাঁ থানার ওসি মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, “গ্রেপ্তার রাসেলের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল দীর্ঘদিন ধরে এশিয়ান হাইওয়েতে ডাকাতি করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে ডাকাতি, মাদক ও মারামারিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মহাসড়কে অপরাধ অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করছি।”
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।