
তরিকুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় প্রবাসী যুবক মাসুম মিয়া (২৫) নিহত হওয়ার ঘটনায় জড়িত অন্যতম আসামি শাকিল মিয়া (৩০)-কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ ২০২৬, সোমবার সন্ধ্যায় রূপগঞ্জ উপজেলার টাওরা পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুর মোহাম্মদের ছেলে মাসুম মিয়া গুরুতর হামলার শিকার হন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, মাসুম মিয়া ও পার্শ্ববর্তী ভোলাব এলাকার রাজু একসঙ্গে সৌদি আরবে অবস্থান করতেন। সেখানে তাদের মধ্যে টাকা-পয়সার লেনদেন ছিল। কিছুদিন আগে প্রথমে রাজু এবং পরে মাসুম দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর পাওনা টাকা নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও বিরোধ সৃষ্টি হয়।
ঘটনার দিন মাসুম মিয়া মোটরসাইকেলযোগে পাঁচদোনা থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে টাওরা মধ্যপাড়া সড়কে রাজুসহ গ্রেফতারকৃত শাকিল মিয়া এবং আরও কয়েকজন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনাটি বিভিন্ন টেলিভিশন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচারিত হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
র্যাব জানায়, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে র্যাব-১১ নারায়ণগঞ্জ সদর কোম্পানি ও র্যাব-১ উত্তরা যৌথভাবে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৪ এপ্রিল ২০২৬, সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে, ঢাকার তুরাগ থানাধীন দিয়াবাড়ী এলাকার উত্তরা উত্তর মেট্রোরেল স্টেশনের মেট্রো ফুড কোর্টের সামনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন আসামি শাকিল মিয়া (৩০), পিতা মো. মোস্তফা, সাং- ভোলাব, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ-কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাব।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।