
তরিকুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় প্রধান আসামি শফিক (২৪) ও তার সহযোগী রাশেদ (২২)-কে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১১।
“বাংলাদেশ আমার অহংকার” এই শ্লোগান নিয়ে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জঙ্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারসহ বিভিন্ন আলোচিত অপরাধীদের গ্রেফতারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ধারাবাহিক গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে র্যাব জনগণের আস্থা অর্জনে সফল হয়েছে।
ভুক্তভোগী তরুণীর মায়ের কাছ থেকে অভিযুক্তদের ৪ লাখ টাকা পাওনা ছিল। সেই টাকার বিনিময়ে অভিযুক্তরা একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয় এবং পাওনা টাকা পরিশোধের পরও সেটি ফেরত দিতে গড়িমসি করতে থাকে।
০৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ সকাল ১১টার দিকে অভিযুক্তরা তরুণীকে ফোন করে জানায় যে, তারা স্বাক্ষরিত দলিলটি ফেরত দেবে। কথামতো সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় গেলে অভিযুক্তরা জানায় দলিলটি তাদের বোনের বাসায় আছে এবং সেটি আনতে হলে সেখানে যেতে হবে।
সরল বিশ্বাসে তরুণী মাইক্রোবাসে উঠলে, দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি দশ পাইপ এলাকায় নিয়ে গিয়ে তারা তরুণীর ওপর শারীরিক নির্যাতন ও পরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সদর কোম্পানি, নারায়ণগঞ্জের একটি বিশেষ দল ১০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ রাত ৮টার দিকে ঢাকার গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি শফিক (২৪), পিতা—আবুল মাতুব্বর এবং তার সহযোগী রাশেদ (২২), পিতা—এনায়েত মাতুব্বর, (সাং—উত্তর গাছুয়া, থানা—মুলাদী, জেলা—বরিশাল; বর্তমান ঠিকানা—জিগাতলা, ধানমন্ডি, ঢাকা) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।